হাফিজের দিওয়ান: প্রথমা
ইউরোপ-ইসলাম-ইন্ডিয়া (ইইই) সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে ওভিডের ‘মেটামর্ফোসিজের’ প্রথম পর্বের পর শুরু করলাম হাফিজের দিওয়ান, মানে ৪৯৫টা গজলের সংকলন। হাফিজের নাম শুনলে বাংলায় অনেকের মনে তিনটা ব্যাপার মাথায় আসে: হাফিজকে (১৩২৫-৯০) বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন (লোকে বলে) সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ (রাজত্বকাল ১৩৯০-১৪১১), রবীন্দ্রনাথ পারস্য ভ্রমণের সময় হাফিজের সমাধিসৌধে বসে চোখ বন্ধ করে দিওয়ানের র্যান্ডম এক পাতা খুলেছিলেন নিজের মনের কথা পড়ার জন্য, আর বাংলায় হাফিজের সাথে সবচেয়ে বেশি কথা বলেছিলেন নজরুল। আর ইউরোপে হাফিজের নাম আসলেই আসে জার্মানির গ্যোটের নাম, আসে ‘ভেস্ট-ওস্টলিকার ডিভান,’ আসে ভাইমার শহরে মুখোমুখি দুই খালি চেয়ার (যার ছবি দিয়েছি), একটাতে গ্যোটের অতৃপ্ত প্রেতাত্মা, আরেকটাতে হাফিজের মাতাল ভূত। ইইই সিরিজের জন্য গ্যোটে বা হাফিজের মতো উপযুক্ত মানুষ পৃথিবীতে খুব কম আছে।
দিওয়ানের ৪৯৫টা গজলের প্রথম ৩৩টা অনুবাদ করে প্রথমা হিসেবে প্রকাশ করলাম। ৪৯৫ কে ১৫ দিয়ে ভাগ করলে হয় ৩৩। তাই প্ল্যান করেছি দিওয়ানকে ১৫ ভাগে ভাগ করব, প্রতি ভাগে থাকবে ৩৩টা করে গজল। মূল ফার্সিতে এমন কিছু নেই। সেখানে সব গজল তাদের রাইম-শব্দের শেষ বর্ণের ক্রম অনুযায়ী সাজানো থাকে, আলিফ থেকে ইয়া পর্যন্ত। আমি পনের ভাগে ভাগ করছি দুই কারণে, প্রথমত ওভিডের ‘রূপান্তরেও’ পনেরটা বই, আর দ্বিতীয়ত, ইন্ডিয়ান কালচারে চাঁদের পনেরটা ফেইজের নাম আছে, প্রথমা থেকে চতুর্দশী পর্যন্ত চৌদ্দ কলা, আর শেষ কলার নাম পূর্ণিমা। এই পনের দিনে হয় এক পক্ষ, প্রথমা থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত শুক্লপক্ষ, আর পূর্ণিমা থেকে প্রথমার অমাবস্যা পর্যন্ত কৃষ্ণপক্ষ। ভাবতে ভালো লাগে এক শুক্লপক্ষে প্রতি রাতে হাফিজের ৩৩টা করে গজল পড়া হচ্ছে, যত দিনে প্রথমা থেকে বাড়তে বাড়তে চাঁদ পূর্ণিমায় পৌঁছাচ্ছে ততদিনে শেষ হচ্ছে দিওয়ান এক খতম। তারপর কৃষ্ণপক্ষে রোজার মতো সংযম শেষে আবার পরের শুক্লপক্ষে শুরু হচ্ছে দিওয়ানের দ্বিতীয় খতম।
ওভিডের ‘মেটামর্ফোসিজে’ আড়াইশ বিচ্ছিন্ন গল্পকে একসাথে গাঁথার সুতা ছিল রূপান্তর, আর হাফিজের পাঁচশ বিচ্ছিন্ন গজলকে একসাথে গাঁথার সুতা হচ্ছে ওয়াইন। কিসের ওয়াইন? হাফিজ কি আসলেই ওয়াইন খেতেন? ট্রেডিশন তা স্বীকার করে না। হাফিজের বারকে (খারাবাত) বলা হয়েছে দুই দুয়ারী দুনিয়া, বারটেন্ডার সাকীকে বলা হয়েছে খোদার দূত, গ্লাসকে বলা হয়েছে হৃদয় মন আত্মা, আর গ্লাসের ওয়াইনকে খোদার অস্তিত্বের নিরন্তর স্রোত। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। হাফিজকে এক ব্যাখ্যার এক তাফসিরে বন্দি করা যাবে না। যে হাফিজকে এক ব্যাখ্যায় বন্দি করতে চাইবে সে-ই গজলের বিদ্রুপের শিকার হবে। হাফিজ বিদ্রুপ করেছেন সব ধরনের ভণ্ডকে। বাইরে ধার্মিক ও ভিতরে ভণ্ডদেরকে জাহেদ বলে কটাক্ষ করেছেন, আর বাইরে মদ্যপ ও ভিতরে ধার্মিক রিন্দদেরকে নিজের লোক বলেছেন। কিন্তু রিন্দদেরকেও ছাড় দেন নাই। রিন্দ সুফি জাহেদ সবার মধ্যেই যে ভণ্ড থাকতে পারে সেই ব্যাপারে তিনি সব সময় সচেতন। যারাই ধর্মকে ইউজ করে অন্য মানুষের উপর অন্যায় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদের বিরুদ্ধেই ছুটে আসে হাফিজের মদের তির। নজরুলও এই তির ছুঁড়তে শিখেছিলেন।
ইসলাম এক বিশাল গাছ, এই গাছের অনেক পচা পাতা আছে, আবার অনেক সুন্দর পাতাও আছে। পচা পাতায় যারা বাস করে তারা সুন্দর পাতা দেখে ঈর্ষায় জ্বলে, তাই সব সুন্দর পাতা কেটে গাছটাকে কুৎসিত বানাতে চায়। যারা মানুষের বাইরের পোশাক আর ভিতরের আত্মার উপর সমান দানবিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারাই আজ ইসলামের রক্ষক হিসেবে পরিচিত হচ্ছে আমাদের সমাজে। এই দানবদের হাত থেকে ভবিষ্যৎ নিরাপদ না। কেউ রক্ষা পাবে না। তবু মাঝে মাঝে ইসলামের বিরাট বৃক্ষের ছায়ায় বসলে মাটিতে অবহেলায় পড়ে থাকা একটা দুটা সুন্দর পাতা কুড়াতে ইচ্ছা করে। জানি কোনো লাভ নাই। তবুও মানুষ আকাশ থেকে আলো কুড়ানোর মতন মাটি থেকেও পাতা কুড়ায়। হাফিজ তেমনি এক পাতা, যে পাতা বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে না।
কি লাভ হাফিজ পড়ে? প্রফেসর ও পোয়েটরা কি বলে আমি জানি না। তেত্রিশটা গজল অনুবাদ করে যা বুঝেছি তা অনেকটা এই রকম। বাস্তবতার বাইরেও আরো অসীম বাস্তবতা আছে, আকাশের ওপারে আকাশ আছে, আর সব আকাশের মালিক, মানে সব বাস্তবতার ভিত্তি খোদা (জেন্ডারবিহীন)। এই খোদার অস্তিত্ব যদি সমুদ্র হয় তাহলে আমরা সারা জীবন সাধনা করে সেই সমুদ্রের শুধু এক ফোঁটা পানি জিভের ডগায় লাগাতে পারব, এর বেশি না। এই পানির রূপক হলো ওয়াইন। কিন্তু প্রেমিক (জেন্ডারবিহীন) ছাড়া ওয়াইনের কোনো মূল্য নাই, যে প্রেমিক ছাড়া ওয়াইন খায় সে খোদার পানি তো দূরের কথা ধুলাও পাবে না। তাই প্রেম মদ আর বিউটিকে হাফিজ সবার উপরে রাখছেন। এক মানুষ যখন আরেক মানুষকে সুন্দর বলে, যখন সেই সুন্দরের স্বাদ পাওয়ার জন্য ঠোঁটে ওয়াইন লাগায়, তখন সে এমন কিছু একটা করে যা খোদার অস্তিত্বের সমুদ্র থেকে এক ফোঁটা ওয়াইন পান করার সম্ভাব্য সবচেয়ে কাছাকাছি। এই কারণেই গোঁয়ার জাহেদরা (ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী) চায় না মানুষের মানুষকে সুন্দর লাগুক, বিউটির সব চিহ্ন তারা মুছে দিতে চায় সমাজ থেকে, মানুষের শরীর থেকে, মানুষের পোশাক থেকে। তারা মানুষে মানুষে চুমু খাওয়ার মতো সুন্দর দৃশ্যকে সবার কাছে কুৎসিত হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে হাফিজের যুদ্ধ।
আমি অনুবাদ করেছি মূল ফার্সি থেকে। ফার্সি বেশি ভালো পারি না, তাই সাহায্য নিয়েছি চ্যাটজিপিটির আধুনিক আক্ষরিক অনুবাদ আর হেনরি উইলবারফোর্স ক্লার্কের ভিক্টোরিয়ান ইংলিশ অনুবাদের। অনুবাদে বাংলা ১৪ থেকে ২০ মাত্রার মিশ্রছন্দ ইউজ করা হয়েছে। হাফিজের প্রতি লাইনের কাঠামো ঠিক রাখা হয়েছে এক দুইটা ব্যতিক্রম ছাড়া। গজলের অন্তমিলের প্যাটার্নও রক্ষা করা হয়েছে। বাংলা ও ফার্সি পাশাপাশি পাওয়া যাবে নিচের গুগল শিটে, সাথে কিছু শব্দের অর্থও আছে। মানসরোবরে যা প্রকাশ করলাম তা মৃত, মানে আর পাল্টাবে না, কিন্তু গুগল শিটের অনুবাদ পাল্টাতে থাকবে যতদিন বেঁচে আছি ততদিন। একেকটা গজল একেকটা বালিশ (ছবিতে যেমন আছে), বালিশে হেলান দিয়ে আয়েশ করতে হবে।
১
আসো সাকী, চালাও তোমার গ্লাস, হাতে দাও তুলে,
প্রেম ভাবতাম সোজা, পরে পড়লাম কি মুশকিলে।
তোমার চুল থেকে বাতাস বহায় কস্তুরীর ঘ্রাণ,
সুগন্ধী চুলের পাক কি রক্ত ঝরায় কত দিলে।
জানের মঞ্জিলে আর কি আয়েশ যদি ক্ষণে ক্ষণে
ঘণ্টা ফরিয়াদ করে, মাহমিল তাবু নাও তুলে।
মাজিপীর যদি বলে মদ দিয়ে রাঙাও মাদুর,
সালেক খবর রাখে কি রাস্তা ও রসম মঞ্জিলে।
অন্ধকার রাত, তরঙ্গের ভয়, কি ভয়াল ঘূর্ণি—
তীরের তৃপ্ত বান্দা কি জানে আমরা আছি কি হালে?
আমার কামে আমার কর্মের হয়েছে বদনাম,
রহস্য কি গোপন থাকে যদি ছড়ায় মাহফিলে?
যদি চাও তার হাজিরা, গায়েব হয়ো না, হাফিজ,
দুনিয়াকে ত্যাগ করে যেতে দাও যা চাও তা পেলে।
২
কর্মের ভালো কোথায় আর কোথায় আমি খারাপ?
দেখো পথের তফাত, কই শুরু কই শেষ ভাব।
ক্লান্ত আমার দিল দেখে ভণ্ডের আশ্রম খিরকা;
মাজির মন্দির কোথায়, কোথায় ভালো শরাব?
মাতলামির সাথে ন্যায় বা তাকওয়ার কি সম্পর্ক?
কোথায় ওয়াজের সাম আর কই সুরেলা রবাব!
দোস্তের চেহারা থেকে দুশমনের দিল কি পায়?
কই মরা চেরাগ? কই তোমার মোম, আফতাব?
তোমার দুয়ারের ধুলা আমাদের চোখের কাজল,
তুমি ছাড়া কোথায় যাব, ফরমান করো, জনাব।
দেখো না চিবুকের আপেল, তার পথে কুয়া আছে;
এত জোরে কই যাও, দিল, কিসের এমন চাপ?
চলে গেছে! থাকার সময়ের খুশির স্মৃতি থাক;
কই গেল সেই কারিশমা, কোথায় সে দুরালাপ?
হাফিজের কাছে ঘুম বা শান্তি আশা করো না, দোস্ত,
কিসের শান্তি, কিসের ধৈর্য, আর কোথায় খোয়াব?
৩
শিরাজের তুর্কি যদি দখল করে দিল আমার,
বুখারা সমরকন্দ দিতাম হিন্দু তিলের জন্য তার।
বাকি ওয়াইনটা ঢালো, সাকী, কারণ জান্নাতে পাব না
মুসল্লার বাগান আর রুকনাবাদের পানির ধার।
হায়! দুরন্ত এই শহর-কাঁপানো রূপসীরা
নেয় দিলের ধৈর্য যেভাবে তুর্কিরা নেয় খাবার।
প্রিয়ার রূপ কাঙাল না আমাদের অপূর্ণ প্রেমের,
সুন্দর মুখে লাগে না রং রেখা তিলের বাহার।
রোজ বাড়তে থাকা ইউসুফের রূপ দেখে বুঝেছি
যে প্রেম জুলেখাকেও খোলায় ঘোমটার আঁধার।
আমাকে দোষ দাও বা অভিশাপ দাও, দোয়া করি,
তিক্ত জবাব মানায় মধুর রুবি ঠোঁটে তোমার।
নসিহত শোনো, জান, কারণ জানের চেয়ে প্রিয়
ভাবে ভাগ্যবান তরুণেরা বিজ্ঞ বৃদ্ধের বিচার।
গান বা ওয়াইনের কথা বলো, ভাগ্যের রহস্য না,
জ্ঞান দিয়ে কেউ পায়নি, পাবে না এ ধাঁধার কিনার।
গজল লিখেছ, মুক্তা গেঁথেছ, এবার গাও, হাফিজ,
যাতে স্বর্গ তোমার গানে পরায় কৃত্তিকার হার।
৪
ভোরের হাওয়া, সুন্দর গেজেলকে বলো দয়া করে,
তার জন্য মরুতে পাহাড়ে তুমি আমাদের ছেড়ে।
চিনির সেলার (তার জীবন দীর্ঘ হোক) কেন
সে তোতার খোঁজ নেয় না যে চিনির জন্য মরে?
ও ফুল, রূপের গর্ব তোমাকে অনুমতি দেয় না যে
জানতে চাও না আন্দালিবের দশা প্রেমের ঘোরে?
স্বভাব সৌজন্য দিয়ে দার্শনিকও জয় করা যায়,
বোদ্ধা পাখি ধরা যায় না জাল আর ফাঁদের ঘেরে।
আমি জানি না কি কারণে চেনা কোনো চিহ্ন নাই
কালো চোখের চন্দ্রমুখীদের লম্বা শরীরে।
যখন প্রিয়ার সাথে বসবে আর ওয়াইন খাবে,
ভেবো সে প্রেমিকদের যারা বাতাসের সাথে ঘোরে।
তোমার রূপের কোনো দোষ বলি না এটুকু ছাড়া,
নাই বিশ্বাস আর মায়া তোমার সুন্দর অধরে।
আজব কি যদি আসমানে, হাফিজের কথামতো,
এমনকি যিশুও নাচে জাহরার গানের সুরে।
৫
গেলো আমার দিল, ও দিলদরিয়া, দোহাই খোদার!
হায়, বুঝি ফাঁস হয়ে গেলো গোপন কথা আমার।
ডুবন্ত নৌকার যাত্রী আমরা, জাগো হে ঝোড়ো হাওয়া,
হয়তবা কোনো চেনা মুখের দেখা পাব আবার।
এই দশ দিনের দুনিয়াদারি রূপকথা, জাদু;
বন্ধুকে ভালোবাসার ফুরসত রেখো, হে ইয়ার।
কাল রাতে বুলবুল ওয়াইন ও গোলাপের বৃত্তে:
‘আনো ভোরের ওয়াইন, জাগো রে মাতালের ঝাড়!’
সুস্বাস্থ্যের শুকরিয়া হিসেবে, ও দয়াল সাহেব,
একটু খোঁজ নিও দুঃস্থ দরবেশের কি দরকার।
দুই জাহানে আয়েশের তাফসির এ দুই শব্দে:
দুশমনের সাথে ধৈর্য আর দোস্তের প্রতি উদার।
সুনামের গলিতে আমাদের যেতে দেয়নি কেউ,
যাও ভাগ্য বদলাও এটা পছন্দ না হয় যার।
সুফিদের কাছে তিতা যে বস্তুর নাম ‘উম্মে গুনা’,
আমি বলি অধরার চুমুর চেয়ে মধুর স্বাদ তার।
বিষাদের সময় খোঁজো আয়েশ নেশা ও মাস্তি,
কারণ ভিক্ষুককেও কারুন করে অস্তিত্বের সার।
গর্ব করো না, নিজের ঈর্ষায় পুড়বে মোমের মতো,
যেখানে শক্ত পাথর মোম করে দেয় দিলবার।
ওয়াইনের গ্লাস হলো সিকান্দারের আয়না, তাকাও,
যাতে সে দেখায় তোমাকে কেমন মুলক দারা’র।
ফার্সি বলা রূপসীরা অন্যকে দান করে জীবন,
সাকী, মহান রিন্দের কাছে দাও এই সুখবর।
হাফিজ স্বেচ্ছায় পরেনি ওয়াইনে রাঙানো খিরকা,
শুদ্ধ হৃদয়ের শেখ, মাফ করে দিও এই বার।
৬
সুলতানের দরবারে কে পৌঁছাবে এই দোয়া, হায়,
যেন রাজ্যের শুকরিয়ায় গরিবকে না তাড়ায়?
শয়তান শত্রু থেকে খোদার কাছে পানাহ চাই,
যদি না, হে খোদা, সেই উজ্জ্বল তারা হাত বাড়ায়।
কালো পাপড়ি যদি ইশারা করে রক্তের দিকে,
সাবধান থেকো, প্রিয়া, ভুলো না তার প্রতারণায়।
তোমার গালে পড়লে আলো দুনিয়ার দিল জ্বলে,
কি লাভ পাও তুমি যে একটুও গলো না দয়ায়?
সকালের বাতাস প্রেমিকের বার্তা বয়ে এনে
প্রিয়াকে ছুঁয়ে দেবে সারা রাত থাকি এই আশায়।
এ কেমন কেয়ামত দেখালে প্রেমিককে, ও জান?
মুখ দেখাও, জান দিল বলি তোমার রূপ দেখায়।
ভোরে-ওঠা হাফিজকে এক চুমুক দাও, খোদার
দোহাই, যাতে সুফল পাও তার ভোরের দোয়ায়।
৭
আসো, সুফি, কারণ পেয়ালা স্বচ্ছ আয়নার মতো,
যাতে দেখতে পাও রুবিরাঙা ওয়াইন স্বচ্ছ কত।
পর্দার রহস্য খোঁজ করো মাতাল রিন্দের কাছে,
উঁচু পদের জাহেদ জানে না এই হালের তত্ত্ব।
আনকা কারো শিকার হয় না, ফাঁদ গুটিয়ে নাও,
কারণ সেখানে সেই ফাঁদ শুধু বাতাসে আবৃত ।
মজলিশে এক দুই গ্লাস পান করে চলে যাও,
অর্থাৎ আশা করো না মিলনের চিরস্থায়িত্ব।
ও দিল, যৌবন গেল, জীবন থেকে তুললে না ফুল,
বৃদ্ধ শিরে আর নাম যশের পিছে ছুটবে কত?
বর্তমানের মজায় মন দাও, পানি শেষ হলে
আদমও রাখেনি শান্তির বাগান, হোক বেহেশ্ত।
তোমার দোরগোড়ায় খিদমতের হক আমাদের,
হে খাজা, করুণা করে আবার দেখো তোমার ভৃত্য।
হাফিজ গ্লাস ও ওয়াইনের মুরিদ, যাও, হে হাওয়া,
গ্লাসের শেখের কাছে নাও বান্দার বন্দেগি যত।
৮
সাকী, জেগে ওঠো, এই গ্লাস দাও ভরে,
আর ধুলা ছোঁড়ো কালের দুঃখের শিরে।
মদের পেয়ালা দাও হাতে, যাতে আমি
নীল জীর্ণ এ জামা ফেলতে পারি ছুঁড়ে।
যদিও জ্ঞানীর কাছে আমাদের কুখ্যাতি,
আমরা খ্যাতির পিছনে মরি না ঘুরে।
ওয়াইন ঢালো, কত আর গর্বের বাতাস,
ধুলা ছুঁড়ে দাও ব্যর্থ নফসের শিরে।
আমার দুখি বুকের দীর্ঘশ্বাসের
ধোঁয়ায় হতাশ বাচ্চারা গেছে পুড়ে।
আমার প্রেমে উন্মাদ দিলের প্রেমিক
দেখি না খাস বা আম জনতার ভিড়ে।
এক স্নিগ্ধ প্রিয়ার খাতিরে আমি খুশি,
যে দিলের আরাম কেড়েছে একবারে।
সে বাগানে আর সাইপ্রেস দেখে না যে
দেখেছে সেই রুপালি সাইপ্রেসটারে।
সবুর করো, হাফিজ, রাত দিন কষ্ট,
একদিন তোমার কামনা যাবে পুরে।
৯
যৌবনের জৌলুস আবার ফিরে পেয়েছে বাগান,
ফুলের সুখবর আনে সুরেলা বুলবুলের গান।
বাগানে তরুণদের কাছে গেলে, হাওয়া, আমাদের
সালাম যাতে পায় গোলাপ সাইপ্রেস রায়হান।
যদি ওয়াইন সেলার যুবক প্রকাশ করে রূপ
চোখের পাপড়ি দিয়ে ঝাড়ু দিব বারের খিলান।
ওহে, পিউর অম্বুরি চৌগান দিয়ে যে চালাও চাঁদ,
ইতিমধ্যে পথভ্রষ্ট মনে আর তুলো না তুফান।
গ্লাসের তলানি খাওয়া মাতালকে যারা ব্যঙ্গ করে
শেষে তারাই খারাবাতের বারে হারাবে ঈমান।
বন্ধু করো খোদার মর্দকে, কারণ নূহের নৌকায়
এমন মাটি আছে যা ডুবাতে পারে না মহা-বান।
আকাশের ঘর থেকে যাও, এখানে রুটি খুঁজো না,
সে কালো বাটির কারণে শেষে মরবে মেহমান।
যার ঘুমানোর শেষ ঘর শুধু এক মুঠি ধুলা
বলো সে কেন তুলতে চায় আকাশছোঁয়া দালান?
ওরে কেনানের চাঁদ, মিশরের মসনদ তোমার,
এখন তোমার কারাবন্দি জীবনের অবসান।
হাফিজ, মদ খাও, থাকো রিন্দের মতো খুশি, কিন্তু
অন্যদের মতো ভণ্ডামির ফাঁদে ফেলো না কুরআন।
১০
গত রাতে মসজিদ থেকে বারে আসলেন পীর;
তবে, তরিকতের সাথীরা, কি আমাদের তদবির?
আমরা মুরিদরা কিভাবে কিবলার দিকে ফিরব
যদি ওয়াইন সেলারের দিকে ফিরেন স্বয়ং পীর?
তরিকতের খারাবাতে আমরা একসাথে থাকি,
কারণ আদিকাল থেকে এই আমাদের তকদির।
বুদ্ধি যদি বুঝত দিলের সুখ তার চুলের ফাঁসে,
বোদ্ধাদেরও দিওয়ানা করত আমাদের জিঞ্জির।
তোমার সুন্দর মুখ আমাদের দেখাল করুণা,
সে থেকে বিউটি করুণা ছাড়া কিছু না তাফসির।
তোমার পাষাণ দিলে কোনো রাতে আগুন ধরাবে
আমাদের রাতজাগা বুকে দীর্ঘশ্বাসের মদির?
দীর্ঘশ্বাসের তির আকাশ ছাড়ায়, মৌন হাফিজ,
নিজের জান রহম করো, ঠেকাও আমাদের তির।
১১
সাকী, মদের আলোয় আলোকিত করো গ্লাস আমাদের;
গায়ক, গাও, জাহান হলো কামনার বাস আমাদের।
আমরা পেয়ালায় দেখেছি প্রিয়ার মুখের ছবি; বেখবর,
তুমি জানো না একটানা পান করার বিলাস আমাদের।
কখনোই মরে না সে যার হৃদয় বেঁচে উঠেছে প্রেমে,
নিখিলের খাতায় লেখা অনন্ত ইতিহাস আমাদের।
এত কারিশমা ও আহ্লাদ দীর্ঘদেহী রূপসীদের যে
সাইপ্রেসও চায় দেবদারু-হাঁটার অভ্যাস আমাদের।
ও হাওয়া, যদি বন্ধুদের গুলশান দিয়ে যাও,
দয়া করে জানের কাছে পৌঁছে দিও আভাস আমাদের।
তাকে বলো, ইচ্ছা করে আমাদের নাম কেন ভুলে যায়?
যা ভুলে যাও তা ফের আনবে নামের পাশ আমাদের।
আমাদের দিলে বাঁধা দয়িতার চোখে নেশা সুন্দর,
তাই তো নেশার হাতে সোপর্দ করা রাশ আমাদের।
ভয় হয় শেষ বিচারে শেখের হালাল রুটির চেয়ে
বেশি লাভ পাবে আঙুরের হারাম নির্যাস আমাদের।
চোখ থেকে এক দানা অশ্রু বর্ষণ করো, হাফিজ,
হয়ত মিলনপাখি ধরতে চাবে ফাঁদের গ্রাস আমাদের।
আকাশের সবুজ দরিয়া আর হেলালের বাঁকা নৌকা
ডুবিয়ে দেয় হাজি কাওয়ামের আশ্বাস আমাদের।
১২
চাঁদ-সুন্দরের আলো ঝরে মুখে অম্লান তোমার,
রূপের দীপ্তি ছড়ায় চিবুকের নিপান তোমার।
তোমাকে দেখতে চায় অধরে আসা অধীর জান;
ফিরে যাবে না বেরিয়ে যাবে, কি ফরমান তোমার?
তোমার নার্গিস ঘিরে দৌড়িয়ে কেউ রক্ষা পায়নি,
বিক্রি করো না মাতালদের কাছে সম্মান তোমার।
আমাদের ঘুমিয়ে থাকা ভাগ্য কি জাগবে কখনো
যদি চোখে জল না দেয় মুখের ভাস্বান তোমার।
জামা থেকে পাঠাও ফুলের তোড়া পূবালি হাওয়ায়,
যাতে আমরা পাই বাগানের ধুলার ঘ্রাণ তোমার।
তোমাদের আয়ু আশা পুরাক, জামশিদের সাকী,
না পুরাক আমাদের গ্লাস যুগের আপান তোমার।
ভাঙছে আমার দিল, দিলদারকে খবর দাও,
হে দোস্ত, নয় যাবে আমার জান ও জান তোমার।
এ ইচ্ছা কে পূরণ করবে, রব? যে হাত মিলাক
আমাদের যৌথ আত্মা ও চুলের বিথান তোমার।
এদিকে এলে ধুলা ও রক্ত থেকে জামা দূরে রেখো,
এই পথে অনেকেই হয়েছে কুরবান তোমার।
হাফিজ দোয়া করছে, শোনো এবং বলো, আমিন,
আমাদের রুজি হোক রুবি চিনির দান তোমার।
পূবালি, ইয়াজদে সবাইকে আমাদের হয়ে বলো,
বেইমানের মাথা নিয়ে খেলে চৌগান তোমার।
যদিও আসর থেকে আমরা দূরে, হিম্মত দূরে না,
আমরা তোমাদের শাহের বান্দা, গাই গান তোমার।
তারা-ভাগ্য শাহেনশাহ, খোদার দোহাই, হিম্মত দাও,
তারার মতো চুমু খেতে চাই ধুলার উঠান তোমার।
১৩
ফুটে উঠছে সকাল, মেঘেরা পাগড়ি পরে;
ভোরের ওয়াইন, হে সঙ্গী, ওয়াইন এই ভোরে।
টিউলিপের লাল গালে ঝরে পড়ে শিশির;
মদের ধারা, মদের ধারা, আসো বন্ধু ওরে।
ময়দান থেকে আসছে বেহেশ্তের বাতাস,
নিখাদ ওয়াইন খাও দমে দমে চিরতরে।
বাগানে ফুল পেতেছে পান্নার সিংহাসন,
রুবির মতো আগুন মদ পান করো ধরে।
বারের দরজা তারা বন্ধ করেছে আবার,
ওপেনার, খুলে দাও দরজা ওপেন করে।
তোমার দাঁত আর ঠোঁটের নিমকের হক
জান আর সিনায় যা কাবাব হয়েছে পুড়ে।
এমন মৌসুম তো আজব হতেই হবে
যদি এত দ্রুত দেয় সব বার বন্ধ করে।
দেখে পরীর মতো শরীরের সাকীর মুখ
নিখাদ ওয়াইন খাও হাফিজের মতো ধীরে।
১৪
গরিবে দয়া করো, রূপের সুলতানকে বলি একদিন;
সে বলে, দিলের পিছনে চললে গরিব হয় মিসকিন।
বললাম, একটু থাকো; বলল, পারব না, মাফ করো;
গরিবের দুঃখ সইবে না যার বিলাসে কেটেছে দিন।
শাহী পশমে ঘুমায় যে-রূপসী দুঃখের সে কি বুঝবে?
গরিবের বালিশ বিছানা শুধু পাথর কাঁটায় লীন।
ওহে, যার চুলের জিঞ্জিরে থাকে পরিচিত অনেকেই,
কস্তুরীকালো তিলে গরিবের গাল সুন্দর রঙিন।
তোমার চাঁদমুখের রঙে ওয়াইনের প্রতিফলন
যেন আর্গাবনের পাতার তলে অদ্ভুত নাসরিন।
তোমার মুখের ধারে অদ্ভুত লাগে পিঁপড়ার রেখা,
গরিব না যদিও রূপের ঘরে কালো রেখার মার্জিন।
বললাম, হে গরিবের সন্ধ্যা, রাতের মতন কালো চুল,
সকালে সতর্ক থেকো গরিবের কান্না হলে সঙিন।
বলল, হাফিজ, যেখানে বন্ধুরা আছে বিভ্রান্তির ঘেরে,
অবাক কি আর যদি গরিব হয় অসহায় মিসকিন।
১৫
ওরে স্বর্গের সুন্দর, কে খুললো তোমার নেকাব?
বেহেশ্তের পাখি, কে মিটাল দানাপানির অভাব?
আমার ঘুম উড়ে গেল জিগরজ্বালানো চিন্তায়,
কার বুকে মঞ্জিল পেলো তোমার আয়েশ খোয়াব?
দরবেশের খোঁজ নাও না, আমার ভয় হয়
যে পরিত্রাণ নাই তোমার চিন্তায়, নাই সোয়াব।
মাতাল চোখে বশ করেছ কত আশিকের দিল,
এই থেকে বোঝা যায় কত কড়া তোমার শরাব।
চোখ দিয়ে যে তির ছুঁড়েছ দিলে তা বিঁধেনি,
দেখি এখন কি রায়ে দাও তুমি মনের জবাব।
যত ফরিয়াদ আর্তনাদ করেছি, তুমি শোনোনি,
তাই, প্রিয়, বুঝি তুমি কত উপরে থাকা জনাব।
পানির উৎস এই মরু থেকে বহু দূর, হুঁশিয়ার,
তোমাকে ধোঁকা না দিক মরীচিকার কুপ্রভাব।
হায়, দিল, কেমন ভাবে হাঁটবে বার্ধক্যের পথে
যেখানে গলদ ছিল তোমার যৌবনের স্বভাব?
ও হৃদয়পোড়ানো প্রাসাদ, ও মিলনের মঞ্জিল,
কালের খারাপে তুমি ধ্বংস না হও, ইয়া রব।
হাফিজ এমন গোলাম না যে প্রভু থেকে পালাবে,
শান্তিতে ফিরে আসো, তোমার গালিতে আমি খারাপ।
১৬
তোমার দুরন্ত ভুরুর বাঁক থেকে ছোঁড়া কামান
এসেছিল আমার জানের দিকে, ক্লান্ত পেরেশান।
দুই জগতের নকশা ছিল না যখন প্রেমের রং
এ জামানার অনেক আগে সময় করে নির্মাণ।
নার্গিস কারিশমার গর্বে একবার তাকানোতে
তোমার চোখ একশ ফিতনায় ছেয়েছে জাহান।
মদে অভ্যস্ত মাতাল তুমি গিয়েছিলে বাগিচায়,
তোমার মুখের জলে আগুন হয়েছে আর্গাবন।
রাতে মাতাল আমি বাগানের বার হয়ে গেলাম,
ফুল দেখে মনে হলো সে তোমার মুখের সমান।
ভায়োলেট বাঁধছিল তার পাকানো চুলের গোছা,
ভোরের হাওয়া তাতে বলে তোমার চুলের বয়ান।
তোমার মুখের সাথে তুলনা করেছি এ লজ্জায়
জুঁই ভোরের হাওয়া দিয়ে মুখ করে ধুলায় ম্লান।
আগে ধর্মের ভয়ে এড়িয়ে যেতাম গান ও ওয়াইন,
আজ বারের তরুণ মাজি পাগল করে পরান।
আমি এখন খিরকা ধুই রুবি রঙের ওয়াইনে,
কারণ এড়ানো যায় না অনন্ত নসিবের টান।
হয়ত হাফিজের মুক্তি সেই খারাপের মধ্যেই
মাজির মদে যা তার নিয়তির অন্তহীন দান।
আমার মনের মতো এখন জাহান, জামানার দৌড়ে
আমি সে-খাজার দাস যার রাজ্য সারা জাহান।
১৭
দিলের আতশে আমার বুক জানের কারণে পোড়ে,
আমার সারাটা বাড়ি এই ঘরের আগুনে পোড়ে।
দিলবারের দূরত্বে আমার শরীর গলে গেল,
জানের জন্য আমার প্রাণ প্রেমের আগুনে পোড়ে।
দিলের দহন দেখো, অশ্রুর আতশে মোমের দিল
মথের মতন গত রাতে প্রেমের মথনে পোড়ে।
চেনা কেউ না, তবু সে আমার দিলের দরদিয়া,
নিজেকে হারালাম, বেগানা আমার স্মরণে পোড়ে।
বৈরাগী খিরকা ভেসে গেছে খারাবাতের পানিতে,
আমার বোধবুদ্ধির ঘর বারের আগুনে পোড়ে।
তওবার সাথে-সাথে পেয়ালার মতো ভাঙে দিল,
জিগর লালে’র মতো ওয়াইন ও বার বিহনে পোড়ে।
কথা কমাও, ফিরে আসো, আমার চোখের লোকেরা
আমার শির থেকে খিরকা খুলে শোকরানে পোড়ে।
হাফিজ, কাহিনি করো না, এক চুমুক মদ খাও;
সারা রাত ঘুমাইনি, মোম কাহিনির টানে পোড়ে।
১৮
সাকী, ঈদ মোবারক, সুন্দর আগামীর বরাতে,
যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে সব মনে থাকে যাতে।
অবাক হয়েছি যে তুমি এই বিরহের সময়
শুধু সঙ্গীর দিল নিতে আর নিজের দিল দিতে।
আঙুরকন্যার দাস হও, তাকে আসতে দাও,
তোমার বাঁধন ভেঙেছে আমাদের দমে হিম্মতে।
মজলিসের সুখ তোমার আগমনে ও কদমে,
তোমার সুখ না চাওয়া দিল ভাসুক দুখের স্রোতে।
খোদার শোকর, হেমন্তের লুটতরাজ হয়নি
জুঁই সাইপ্রেস গোলাপের বাগানে চাঁপার ধাতে।
বদনজর দূরে থাক, কারণ সেই বিচ্ছেদ থেকে
তুমি ফিরেছ বিখ্যাত জন্মগত ভাগ্যের দৌলতে।
হাফিজ, হারায়ো না নূহের নৌকার এই দৌলত,
নয় কালের তুফান নামবে তোমার বুনিয়াদে।
১৯
হে ভোরের বাতাস, বন্ধুর আরামঘর কোথায়?
প্রেমিকনাশী চতুর সে চাঁদের বিহার কোথায়?
রাত অন্ধকার, পুণ্য উপত্যকার পথ সামনে;
তূর পাহাড়ে আতশ কই? সেই দিদার কোথায়?
যারাই জাহানে আসে বয়ে আনে খারাপের নক্সা,
তবে বলো, খারাবাতে একটা হুঁশিয়ার কোথায়?
সুখবর পাওয়ার যোগ্য সে-ই যে ইশারা বুঝে,
সূক্ষ্মতা বহু আছে, রহস্যের সহচর কোথায়?
আমার প্রতি চুলের চূড়ে তোমার হাজার চুক্তি,
আমরা কোথায় আর যে খোঁজে বিকার, কোথায়?
আবার জানতে চাও তার ঢেউ-ঢেউ চুলের কথা,
দুঃখে ভরা পথহারা দিলের কারাগার কোথায়?
আকল হলো পাগল, কস্তুরীর শিকল কোথায়?
আমাদের দিল গেছে, তোমার ভ্রু, দিলদার, কোথায়?
সাকী শিল্পী আর মদ সব প্রস্তুত আছে, কিন্তু
প্রেম ছাড়া আনন্দ পুরা হয় না, ইয়ার কোথায়?
হাফিজ, সময়ের বাগানে হোক না শরতের ঝড়,
দুঃখ করো না, কাঁটা ছাড়া গোলাপঝাড় কোথায়?
২০
রোজা শেষ, ঈদ এলো, জেগে উঠেছে সবার দিল,
মদের স্রোত বয় বারে, এখনি খোঁজো তার মিল।
সংযম-ব্যবসায়ী গোঁয়ার জাহেদের দিন শেষ,
এখন রিন্দের দিন, প্রেম সুখ মুক্তি অনাবিল।
এমন মদ যে খায় তাকে দোষারোপ করো কেন
এমন মূর্খের মতো? কি দোষ তার, কি মুশকিল?
যে মদপানের মধ্যে মুখোশ আর ভণ্ডামি নাই
সে তুলনায় বৈরাগ্য বেচা লোভীর মুখ কুটিল।
আমরা ভণ্ড রিন্দ না, মুনাফিকের মতো সঙ্গী না,
আমাদের এ হালের সাক্ষী যে রহস্যের কামিল।
খোদার ফরজ করি পালন, না করি কারো খারাপ,
লোকে যা বৈধ বলে না করি তাই বৈধের শামিল।
কি হয় যদি কয়েক গ্লাস মদ খাই আমি তুমি?
তোমার খুনে তো না, আঙুরের খুনে মদ রঙ্গিল।
২১
হারিয়েছি দিল দ্বীন, দিলবার উঠে দিল দুর্নাম;
বলল, থেকো না সাথে, উঠে গেছে তোমার সালাম।
এ আসরে কিছুক্ষণ খুশিতে বসে সোহবত শেষে
আক্ষেপে উঠে যায়নি, শুনেছ এমন কারো নাম?
মোম যদি হাসিমাখা তোমার ঠোঁট হয়ে গর্ব করে,
আশিকদের সামনে সারারাত জ্বলে দিবে তার দাম।
বাগানে বসন্ত হাওয়া সাইপ্রেস গোলাপের পাশে
ওঠে তোমার মুখ ও দিঘল দেহে করতে প্রণাম।
ড্রাংক তুমি হেঁটে গেলে নির্জন মালাকদের মাঝে,
দেখে তোলপাড় হলো কেয়ামতের মতো উদ্দাম।
তোমার চলার পথে লজ্জায় পা উঠাতে পারেনি
গর্বিত সাইপ্রেস, শরীর যার দিঘল সুঠাম।
হাফিজ, জান বাঁচাতে চাইলে খিরকা ফেলে দাও,
কেরামতি ভণ্ডামির খিরকায় আগুন অবিরাম।
২২
যখন দিলদারের কথা শুনবে, বলো না ভুল,
তুমি যে কথা বোঝো না, জান, তাই ভুলের মুকুল।
শির আমার আখিরাত দুনিয়া কারো কাছে নত না,
আল্লা মহান যে আমার মাথা এত ফিতনায় ফুল।
ক্লান্তদিল আমার অন্দরে জানি না কে আছে,
আমি খামোশ, সে ফোঁপানি ও গোঙানিতে মশগুল।
পর্দা থেকে বেরোল আমার দিল, তুমি কই, শিল্পী?
বাজাও! এ পর্দায় আমাদের হাল সুরের মাতুল।
দুনিয়ার কারবার আমাকে কখনোই টানেনি,
শুধু আমার চোখে তোমার মুখের শোভা অতুল।
ঘুমাইনি এক খেয়ালে যা পুড়িয়ে মারছে দিল,
শত রাতের তৃষ্ণা আমার, কই শরাবের কুল?
আমার দিলের খুনে যেহেতু মন্দির কলুষিত,
মদ দিয়ে আমাকে ধোয়ার হক তোমার কবুল।
এজন্যই মাজির মন্দিরে আমার সম্মান এত,
অনির্বাণ শিখা আমাদের দিলে চির নিরাকুল।
সেই শিল্পী কি সুর বাজাচ্ছিল পর্দায় যে
জীবন গেলেও মন এখনো কামনাসংকুল?
গত রাতে তোমার প্রেমের ডাক বাজল অন্তরে,
হাফিজের পিঞ্জর এখনো সেই শব্দে সমাকুল।
২৩
তোমার রূপের খেয়াল আমাদের প্রতি পথের বাহন
ও তোমার চুলের হাওয়া জাগ্রত আত্মার বাঁধন।
যারা প্রেম নিষেধ করে তাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও
তোমার চেহারার শোভাই আমাদের অকাট্য কারণ।
দেখো তোমার চিবুকের আপেল কি বলছে:
আমাদের কুয়ায় মিশরের হাজার ইউসুফের পতন।
যদি তোমার লম্বা চুলে আমাদের হাত না পৌঁছায়,
দোষী ছোট হাত, আমাদের গুনা ও নিয়তি পেরেশান।
নির্জন প্রাসাদের খাসকামরার দারোয়ানকে বলো,
অমুকে তোমার দরগার ধুলায় একা করে সাধন।
যদিও আমাদের নজর থেকে তোমার সুরত আড়ালে,
আমাদের শান্ত মনের নজরে সে থাকবে চিরন্তন।
যদি বছরে এক বার হাফিজ কড়া নাড়ে, খুলে দাও,
কারণ বহু বছর সে খুঁজছে মুখ চাঁদের মতন।
২৪
বন্দেগি শপথ সাধুতা দেখাতে বলো না আমাকে,
ওয়াইন পানে বিখ্যাত আমি আলাস্তুর দিন থেকে।
প্রেমের ঝর্নায় ওজু যখন করি সে মুহূর্তেই
চার তাকবির বলেছি যা আছে সবকিছুর আগে।
ওয়াইন দিলে নিয়তির গোপন কথা খুলে বলব,
কার রূপে প্রেমিক আমি, মাতাল কার গন্ধ শুঁকে।
পাহাড়ের কোমর পিঁপড়ার কোমরের চেয়ে দুর্বল,
ওয়াইনখোর, নিরাশ হয়ো না রহমতের রোয়াকে।
চোখ দিয়ে পাহারা দেয়া সে মাস্তান নার্গিস ছাড়া
কেউ ফিরোজা এ গম্বুজের নিচে বসে নাই সুখে।
জান যাক তার ঠোঁটের জন্য, নজরের বাগানে
বিশ্বের কোনো মালীর কুঁড়ি সুন্দর না তার থেকে।
হাফিজ, প্রেমের দৌলতে হয়ে গেছ সোলায়মান,
মানে তোমার মিলনে তার হাতে শুধু হাওয়া থাকে।
২৫
ফুটেছে লাল গোলাপ, হয়েছে বুলবুল মাস্তান,
ওয়াইনখোর সুফিরা, শোনো আনন্দের আহ্বান।
যে তওবার ভিত্তি ছিল পাথরের মতো কঠিন
দেখো এক কাঁচের গ্লাসে তা কেমন ভেঙে খানখান।
তাহলে ওয়াইন আনো, কারণ তৃপ্তির দরবারে
কি সোবার কি মাতাল, কি রাজা আর কি দারোয়ান।
দুই দুয়ারী বার থেকে যেহেতু বের হতেই হবে,
কি যায় আসে উঁচু বা নিচু হোক রুজির খিলান।
আনন্দের মোকাম সহজে মেলে না কষ্ট ছাড়া,
হ্যাঁ, আলাস্তুর সন্ধি বেঁধেছিল দুর্দশার বিধান।
অস্তিনাস্তি নিয়ে কষ্ট দিও না আত্মাকে, সুখে থাকো,
অস্তিত্বশীল সব পূর্ণতার নাস্তিতে অবসান।
আসিফের গৌরব, হাওয়ার ঘোড়া, পাখির ভাষণ
বাতাসে ভেসে গেল, হলো না তাতে খাজার কল্যাণ।
পাখা ও ডানায় ভর করে যেও না পথে, কারণ
আকাশে ছোঁড়া তিরও একটু পরে ধুলায় ম্লান।
কলমের জবান, হাফিজ, কি শুকরিয়া জানাবে
যদি হাত থেকে হাতে ঘুরে তোমার কথার দান।
২৬
এলোমেলো চুল, মদরাঙা মুখে হাসি, টাল হাঁটে,
ছেঁড়া পিরান, গজল গায় মদের সোরাই হাতে।
তার ঝগড়াটে নার্গিস-চোখ, ঠোঁট ভরা আফসোস,
আমার বেডে এসে বসল গতকাল মাঝরাতে।
আমার কানের কাছে তার মাথা এনে দুখি সুরে
বলে, আমার পুরাতন প্রেমিক, পারছ ঘুমাতে?
যে আশিককে দেয়া হয় এমন রাতভাঙা মদ সে
প্রেমের কাফির যদি না মজে মদের ইবাদতে।
যাও, হে জাহেদ, তলানিখোরদের দোষ দিও না,
আলাস্তুর দিন আর কোনো তোহফা দেয়নি পাতে।
আমাদের গ্লাসে যা সে ঢেলেছে তাই পান করেছি,
তা হোক নেশার মদ বা যে ওয়াইন বয় বেহেশ্তে।
ওয়াইন গ্লাসের হাসি ও নেগারের জটিল চুল,
হাফিজের তওবার মতো কত তওবা ভাঙে তাতে।
২৭
মাজির মন্দিরে প্রিয়া আমার গ্লাস হাতে এল কাল,
মাতাল মদে, মদ্যপেরা তার নার্গিস-চোখে মাতাল।
তার সামান্দের নালে দেখেছি নতুন চাঁদের রূপ,
তার দিঘল দেহের পাশে সাইপ্রেসও বেহাল।
কিভাবে বলি নিজের খবর রাখি, যদি না রাখি,
বা বলি তাকে নজর দেইনি, যদি দেই উত্তাল?
আমার দিল-সাথির মোম বসে যায় সে উঠলে,
আর সে বসলে কেঁদে উঠে নজরবাজের পাল।
তার চুলে জড়ানো বলেই সিভিটে খুশবু থাকে,
হেনা তিরন্দাজ হয় যখন পায় তার কপাল।
যদিও ধনুক থেকে ছুটলে তির আর ফেরে না,
ফিরে আসো যাতে ফিরে আসে হাফিজের গত কাল।
২৮
খাজার জান, শাশ্বত হক, আর শুদ্ধ সন্ধির কসম,
তোমার দৌলতের জন্য দোয়াই আমার ভোরের দম।
নূহের তুফানের সাথে পাল্লা দেয়া অশ্রু আমার
বুকের ফলকে প্রেমের নক্সা করতে পারেনি খতম।
একটা ব্যবসা খুলো আর কিনে নাও এই ভাঙা দিল,
অক্ষত হাজারটার চেয়ে বেশি ভাঙা এ দিলের দাম।
আসিফের প্রতি পিঁপড়ার কথা কঠিন হওয়াই ঠিক:
জামশিদের আংটি খাজা খোয়ায়, খোঁজেও না একদম।
ও দিল, দোস্তের সীমাহীন দয়ার আশা ছেড়ো না,
প্রেমের গর্ব করলে দ্রুত মাথা পেতে দেখাও বিক্রম।
সত্যের সাথে চলো, তোমার নিশ্বাসে উঠুক সূর্য;
মিথ্যার কারণে মুখ কালো করেছিল প্রভাত প্রথম।
তোমার হাতে হলাম পাহাড় ও মরুর জন্য পাগল,
তবু আলগা করলে না দয়ায় সিলসিলার লাগাম।
হাফিজ, রাগ করো না, চেয়ো না দিলবারের হেফাজত,
বাগানের কি গুনা যদি না পারে গাছ হতে এ কলম।
২৯
থাকলে তোমার খেয়ালে কেন পরোয়া করব শরাব?
বোতলকে বলো মাথা কুটতে, বার হয়ে গেছে খারাপ।
ওয়াইন বেহেশ্তের হলেও ফেলে দাও, কারণ বন্ধু ছাড়া
যত মিষ্টি শরবতই দাও আমার কাছে সব আজাব।
আফসোস, দিলবার চলে গেছে, আমার সজল চোখে
তার চুলের আঁকা ছবির ক্যানভাসও কেবল আব।
জেগে ওঠো, ওরে চোখ, কারণ কেউ নিরাপদ না
নিরন্তর বন্যা থেকে খোয়াবের মঞ্জিলে যার প্রতাপ।
মাশুক যায় তোমার পাশ দিয়ে সবার সামনে, কিন্তু
অচেনারাও তাকায় বলে সে টেনে রাখে নেকাব।
তোমার রঙিন গালে যখন গুল স্নিগ্ধ আরক দেখে,
প্রেমের আতশে ও দিলের দুঃখে গলে হয় গুলাব।
সবুজ আছে অরণ্য আর প্রান্তর, চলো হাত না ছাড়ি
পানির উৎস থেকে, সারা জাহান তো মরীচিকার ছাপ।
আমার মনের কোণে কোনো জায়গা নাই নসিহতের,
কারণ এই কোণা গুঞ্জনে ভরেছে চান্গ আর রবাব।
কি যায় আসে হাফিজ হলে আশিক রিন্দ নজরবাজ?
আজব সব আচরণ তো কেবল যৌবনের স্বভাব।
৩০
হাজার দিল তোমার চুলের এক সুতায় বাঁধা,
চারদিক থেকে শত উপদেষ্টার আসায় বাধা।
যাতে আশিকরা তার হাওয়ার সুবাসে জান দেয়,
কস্তুরী খোলার পরে দিল আশার দরজায় বাধা।
প্রেমে পাগল আমি, নেগার নতুন চাঁদের মতো
ভুরুর দীপ্তি দেখিয়ে লুকায়: মুখ দেখায় বাধা।
সাকী পেয়ালায় ঢেলে দিল নানা রঙের ওয়াইন,
দেখো দারুণ নক্সা কদুর মতো পেয়ালায় বাঁধা।
হে রব, সোরাই কি ইঙ্গিত করে যে গ্লাসের রক্ত
কুলকুল কান্নার কারণে তার গলায় বাঁধা।
শিল্পী কি সুর সাধল পর্দায় যে সামা’র পর্দায়
সাধকেরা হালে পায় হা ও হু’র দরজায় বাধা।
হাফিজ, প্রেম লালন না করে যে মিলন চায় তার
দিলকাবা তাওয়াফের ইহরাম ওজু ছাড়াই বাঁধা।
৩১
সেই শবে কদর যা আজ খালওয়া’র লোকে বলে,
হে রব, এ দৌলতের প্রভাব কোন তারার ফলে?
তোমার চুলে অযোগ্য হাত যাতে না পৌঁছায় তাই
ইয়া রব ইয়া রব জপে প্রত্যেক দিল বৃত্তের গোলে।
তোমার চিবুকে আমি মরেছি, প্রত্যেক পাশ থেকে
হাজার জানের গর্দান তোমার গলার মালার তলে।
আমার শাহি ঘোড়সওয়ারের মুখে আয়না ধরে চাঁদ,
সূর্যের মহান তাজ কেবল ধুলা তার ঘোড়ার নালে।
দেখো তার গালে ঘামের প্রতিফলন, গরম সূর্য
আরকের কামনায় রোজ জ্বরের কারণে জ্বলে।
ছাড়ব না ইয়ারের লাল ঠোঁট ওয়াইনের গ্লাস,
মাফ করো, জাহেদ, আমার মাজহাব এই বলে।
যখন তারা পুবের বাতাসে পরায় জিন তখন
পিঁপড়ায় চড়ে কেমনে যাব সোলায়মানের দলে।
চোরা চোখে যে আমার দিলে ছুঁড়ে নজরের তির,
হাফিজের জানের জোর তার সূক্ষ্ম হাসির ঢলে।
আবেহায়াত ঝরে বাগ্মিতার ঠোঁট থেকে, আমার
কলমের কাক নামে খোদার নামে কি মস্ত জলে।
৩২
খোদা যখন তোমার দিলখোলা ভ্রুর সুরত বানায়,
আমার কর্মের মুক্তি বেঁধেছিল তোমার কারিশমায়।
সাইপ্রেস ও আমাকে তোমার পদধুলায় ফেলে কাল
যখন নার্গিসের রেশম দিয়ে তোমার জামা সেলায়।
আমার কাজে কুঁড়ির দিলে শত গিঁট খুলে দেয়
ফুলের হাওয়া যখন তার দিল বাঁধে তোমার তৃষায়।
কালের চরকা রাজি করায় আমাকে তোমার বন্ধনে,
কিন্তু কি লাভ যদি সব সুতা চলে তোমার ইচ্ছায়?
কস্তুরীর মতো আমার মিসকিন দিলে গিঁট দিও না,
তার চুক্তি আছে গিঁটখোলা তোমার জুলফির চূড়ায়।
তুমি নিজে আরেক মিলন ছিলে, মিলনের হাওয়া,
ভুল দেখো, দিল আশা বেঁধেছিল তোমার নিষ্ঠায়।
তোমার অত্যাচারে, বলেছিলাম, শহর ছেড়ে যাব;
সে বলে, হাফিজ, যাও, কে শিকল বেঁধেছে পায়?
৩৩
খালওয়াতে যে যায় তার আর তামাশা কি দরকার,
দোস্তের গলি থাকতে মরুর দুরাশা কি দরকার?
প্রিয়জন, তোমার তো খোদার সাথেই প্রয়োজন,
অন্তত জানতে চাও, আমাদের আসা কি দরকার?
ওহে রূপের বাদশা, খোদার দোহাই, জ্বলে যাচ্ছি,
ভিখারিকে অন্তত করো জিজ্ঞাসা, কি দরকার?
আমাদের অনেক অভাব, জানার জবান নাই,
দয়াল হজরতের কাছে আর আশা কি দরকার?
কিসসা কি প্রয়োজন যদি চাও আমাদের খুন,
সব তোমারই হলে আমাদের পেষা কি দরকার?
দোস্তের উজ্জ্বল আত্মা তো জাহান-দেখানো পেয়ালা,
সেখানে করা নিজের অভাব খোলাসা কি দরকার?
সেই মাল্লার মানত বহনের দিন চলে গেছে,
মুক্তা হাতে এলে আর সমুদ্র শোষা কি দরকার?
মিথ্যা দাবিদার, যাও, কাজ নাই তোমার সঙ্গে,
প্রিয়জন থাকলে শত্রুর পাশ ঘেঁষা কি দরকার?
ভিখারি প্রেমিক, বন্ধুর রুহদেয়া ঠোঁট যদি থাকে,
সে তোমার চাওয়া জানে, আর প্রত্যাশা কি দরকার?
হাফিজ, খতম করো, প্রতিভা নিজে প্রকাশ পাক,
প্রতারকের সাথে ঝগড়া তর্কে ভাসা কি দরকার?




Leave a Reply
Want to join the discussion?Feel free to contribute!